সোমবার, ২ মে, ২০১১




এভাবেই একদিন,
এলো দিন সেই দিন
বিদায়ের লগ্নে স্মৃতিগুলো অমলিন ।
উঠোনের মুঠো রোদ
গুঁজে নিয়ে পকেটে
সারাদিন গুন গুন হাসি গান
এর মাঝে আগামির সন্ধান ...
হাঁটি হাঁটি পা পা , রাস্তা
আমি তুমি দেখা হলে হেসে খুন
মনে পরে টিফিনের  গুন গুন ...
চিরকুটে দুষ্টুমি কবিতা,
কার্টুন আঁকিবুকি, ছুটোছুটি, লুটোপুটি
তাড়া দেয় সেদিনের সব গুলো খুঁনসুটি...
এরপর এলো দিন সেই দিন
বেড়ে গেলো জীবনের যত ঋন।
পলাশ শিমুল ফুটে ,শীত যায়
নতুন দিনেরা ডাকে আয় আয়।
খুঁচরো পয়সা হাতে স্মৃতিভার
অসময়ে ছিড়ে যায় কিছু তার ।
ভেঙ্গে যাওয়া কিচু কাঁচ টুকরো
ভালোবাসা, মধুসখা, গল্প
আজ তার পরে আছে অল্প...
আবগের স্রোত ধীরে ক্ষীন হয়
কাঁধে চাপে জীবনের যত ভার
পাখি আর মারে নাকো ছয়, চার !!

 16.03.2011

শেষ বারের মত ডেকে নিও

শেষ শয্যায় নিদ্রামগ্ন যাবার আগে
বুকের গভীরে বিশ্বাসের বীজ বুনে দিও তবু,
তবু তো বেড়ে  উঠবে ওপারের কোন তাজা তরুবর ...
তবু একবার বলতে শিখিয়ে দিও শুধু,
“তুমি এক, তুমি অদ্বিতীয়”
শেষ কবে জায়নামাযের শীতল নকশায় শির রেখে,
অশ্রুসিক্ত চোখের কোনায়
এপারের পঙ্কিল ধুয়ে যাবে জানিনা !
তবু তুমি শুধু শেষবারের মত
অন্তর কে ঝুঁকে দিও নিখুঁত প্রার্থনায় ...
ঠিক শেষ কবে, খুব গোপনে
ডিঙ্গিয়ে যাবো তোমার নির্দেশের সীমান্ত, জানিনা !
তবু তুমি শেষ বারের মতো অনির্বান ভালোবাসার স্পর্শে
আমাকে ডেকে নিও, বোলো, ফিরে এসো ...
শেষ কবে, তোমার মন্ত্রমুগ্ধ সৃষ্টি দেখে বলে উঠবো,
তোমার সৃষ্টি যদি হয় এত সুন্দর, না জানি তাহলে তুমি কত সুন্দর ?
জানিনা !
তবু, শুধু শেষ বার আমাকে রাঙ্গিয়ে দিও তোমার রঙ্গে ...

আত্মায় বারুদের বর্ষন



অনেকেই শংকিত, আত্মায় বারুদের বর্ষন,
অনেকটা অনাকাংখিত ছকে বেধে যাওয়ার মত !!
মানুষে মানুষে বিকর্ষন যখন খুব তীক্ষ তীরের মত বিধতে থাকে এখানে সেখানে
তখন ওরা অনেকেই স্রোতের বিপরীতে লাফিয়ে ওঠে
ওরা অনেকেই তখন আগুনের তেজদ্বীপ্ত শিখার মত উত্বপ্ত হুংকারে আন্দোলিত খুব !!
কে যেন একবার বলেছিল, রক্তে ধুয়ে গেলে বুকের জমিন,
শোকের প্রকান্ড দানব থাবায় দুমড়ে গেলে মায়ের মমতা
অথবা, লাশের মিছিল আর প্রার্থনায় উদবেলিত হলে আদম পৃথিবী,
তখনই সঠিক সময় ।
তখনই বিশ্বাসের ঝলকানিতে সন্ত্রস্ত বিহবলিত দানবেরা লেজ গুটিয়ে ভাগতে থাকে
পরাজিত শয়তানের মত ।
আজ এই বেহুশ বেলায়,
ওরা অনেকেই জীবনের নকশা একে গেছে মৃত্যুর রঙ্গে
ওরা অনেকেই এখন ফুসফুসে গেঁথে নিয়েছে ওপারের ফুলের সুবাস
ওরা অনেকেই এখনও ঘোরলাগা সন্ধায় কারাগারে বন্দি শালিক ...

একটি শোক সংবাদ

মাইকিং এর আওয়াজটা কানে আসতেই,
সমস্ত পৃথিবীটা কাফোনে ঢেকে গেল...
একটি শোক সংবাদ...
ইন্নানিল্লাহি ...
মরহুমের নামাযে জানাজা ...
তারপর,
সারা পৃথিবীটা মৃত্যুর হুংকারে যেন কেঁপে উঠল ...
স্বপ্নেও দেখি হুরমুর করে ঢুকে পরল
মৃত্যু আর লাশের নিস্তব্ধতা !

রবিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১০

সত্য হন্তারক

অন্ধকার গাঢ় হতে হতে
অমাবশ্যা এসে গেছে ঠিক
অথবা, ওরা অন্তরে ঠেসে নিল অন্ধকার
আদিম গুহার মত ।
ধিক ধিক ধিক !!
কার্বন বিষে, প্রকৃতিও হয়ে গেছে নীল
নষ্ট সংস্কৃতির সেকি দানব থাবা !
একদিকে সুনামি, অন্যপাশে তেড়ে আসে
বিবেকের মৃত্যু মিছিল ।
নীল নীল নীল !!
নাহ , মানুষ তো নয়
মানব শরীরে ওরা অবাধ্য নেকড়ের দল
অথবা, নেকড়েও নয় ওরা
ইবলিশের ডানা ধরে ঝুলন্ত সত্য হন্তারক চিল
নীল নীল নীল !!
আরও চলে গহীন গভীরে খুব কুচক্র জাল
আমি তুমি বুঝি সব,
কিংবা আলো পেয়ে পথ চলি নিজের মতন ।
ছড়িয়ে দিয়ে সেই আলোর রেনু,
চলো দেখি আলোকিত বসুধার সাহসী স্বপন ...
যে স্বপ্ন শুষে নেবে ঘুম!!
০৬।১১।২০১০

বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১০

এই ঢের ভাল আছি


ধরো,
তুমি ক্রমশই সবুজ হতে হতে
আস্তো একটা বৃক্ষ হয়ে গেলে,
শব্দহীন, ছন্দহীন, সুরের মুর্ছনাহীন ভূবনে তুমিও তেমন...
নিথর দাঁড়িয়ে তুমি আজন্ম সবুজ ছাড়া কেমন অর্থহীন ।
তার চেয়ে এই ঢের ভাল আছো তুমি,
কান্না হাসির দ্বন্দ্বে দ্বন্দ্বিত মানুষ
কিংবা কবি...
ধরো,
তুমি ক্রমশই উদার হতে হতে
অনন্ত বিশালাকায় আকাশ হয়ে গেলে
গ্যালাক্সি, গ্রহ, নক্ষত্রের ভারে নুব্জ।
অথবা রহস্য রহস্য আর অসীম রহস্য তখন ...
তার চেয়ে এই ঢের ভাল আছো তুমি,
ক্লান্তি শেষে ঘরে ফেরা শফিক সাহেব
কিংবা ফসলের স্বপ্ন বুকে বাঙ্গালী কৃষক...
ধরো,
তুমি ক্রমশই উঁচু হতে হতে
একটা পাহাড় হয়ে গেলে ...
গম্ভীর, অসম্ভব সুন্দর তুমি, প্রকৃতিকে ধারন করো আপন মায়ায় ...
মানুষের মত কি তবু থাকবে এত ঐশর্য তখন ??
তার চেয়ে এই ঢের ভাল আছো তুমি,
অর্থাভাবে আটোসাটো সংসার খেলায় মগ্ন যুলেখা খাতুন ...
কিংবা, মঞ্চ কাঁপানো রোকেয়া প্রাচী ...
২৬/১০/২০১০

শুক্রবার, ২২ অক্টোবর, ২০১০

বিপরীত


একটা যুদ্ধের রক্ত প্লাবন শেষ হতেই
আর একটা যুদ্ধের সমুহ আহবান,
অথচ আমার প্রত্যহ সাধ জাগে
অতল সুরের স্রোতে ঘুরে আসি স্বপ্নলোক
সেখানে বিছানো থাক আনন্দ গোলাপ,
গভীর মন্ত্রবানে সহসাই প্রস্ফুটিত হতে থাক
ইচ্ছেবাগানের যত কুঁড়ি ...
একটা আলো নিভে আসা আকাশ শেষ হতেই
আর একটা ভেজা ভোরের সমুহ আহোবান,
অথচ, আমি চাই অনন্ত রাতের সফর
জ্যোৎস্না নাইবা থাকুক, তবু থাক
অন্ধকারে জ্বলে ওঠা বিড়ালের আলোর গোলক,
একা পথ শুঁকে তবু বুঝে যাই সাহসের অসীম দাপট...
এক একটা নদীর ভাঙ্গন শেষ হতেই
আর একটা রাক্ষসী ঢেউ এর সমুহ দুঃসহ আঘাত...
অথচ আমি চাই এই গাঙ্গেও অঞ্চলে
নদী ও মানুষ আবর্তিত হোক রোমাঞ্চের দ্যোতনায়...
ভাঙ্গা নয়, গড়ে তোলার অভ্যাসে পরিপুষ্ট প্রতিটি নদীতট...
একটা হাসির রুপবতী দিনের আগমন শেষ হতেই
আর একটি সূর্য রহস্য ঘিরে ধরে সমুহ আবেগ
অথচ আমি চাই আমার ভেতরে লুটে পুটে পরে থাক
সবটুকু সত্যের উন্মাদোনা,
সমস্ত পরিশ্রাবনের স্পষ্টভাষী প্রতিজ্ঞা ...