সোমবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১১

চলে যাওয়া নাকি ফিরে চলা ?


আসা এবং চলে যাবার মাঝখানে কিছুটা সময়
যেমন জন্ম, যেমন মৃত্যু
আর, কিছুটা অবুঝ ঔদ্ধত নিষ্টুর নড়াচড়া,
একটা প্রচ্ছন্ন আকুতির আবরনেও চলে যাবার ঘোষনা...
এই চলে যাওয়া কি সত্যিই চলে যাওয়া ?
নাকি ফিরে চলা ?
যেমন চলে গেলেন নাসের খান
যেমন চলে গেল সদ্য পৃথিবীর স্পর্শে কেঁদে ওঠা শিশুটি
কিংবা যেমন চলে গিয়েছিলেন সুমাইয়া ... আরও সুজন, কিংবা অচেনা
নাহ, চলে যাওয়া নয়
বরং ফিরে চলা নিজ ঠিকানায়...

বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১১

আত্বপক্ষ ??


খুব সহজেই বলে ফেলি পাহাড় ডিঙ্গাবো,
ওই দূর নীলিমায় অন্তহীন উড়ে যাবো ঠিক
অথবা,
মনের আকাশে খুব সহজেই জ্বলে ওঠে
অনেক কল্পনা বিলাশি তারা।
এত উদবেলিত হয়ে ওঠে অন্তরটা,
মনে হয় এক্ষুনি ঝাপিয়ে পরি সব অসুন্দরের একদম বিপক্ষে
কিংবা,
পৃথিবীতে সঙ্কুচিত হয়ে আসা বিশ্বাসের ঠিকানা খুঁজতে বেড়িয়ে পরি অজানার পথে।
মাঝে মাঝে আল মাহমুদের কবিতার মত যুদ্ধের হাহাকার ধেয়ে আসে
মুহুর্তেই কোথা থেকে এক দীর্ঘদেহী ঘোরসওয়ার  সামনে দিয়ে লাফিয়ে চলে যায়।
হায় আবেগ ! শুধু
নুয়ে পরি এখানেই, এই জমিনে , পৃথিবীর রঙ আঁকড়ে বেঁচে থাকার লোভ ...


বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১১

প্রয়োজন


লোহার সেকল দিয়ে শুরু 
মিছিলের শ্লোগান থেকে অন্তরে বারুদের ঘনঘটা
উৎপীড়নের বিদ্যুৎ থেকে গ্রেনেড থাবার আনাগোনা 
জমিনে রক্তের গন্ধ ছুটে গেলে, 
ঘরে ঘরে জমে ওঠে এক একটি সাহসী আখরা
ওরা ভাবে এই মৃত্যুর ঝঞ্ঝা বুঝি এঁটে দেবে সূর্যের সামনে কোন কালো দরজা 
আর সোনালী তোড়নের দিকপালেরা নিঃশেষ হয়ে যাবে সহসাই
আসলে কি তাই ?
এখানেই ইতিহাস চিৎকার করে সাক্ষী দিয়ে চলেছে বাড়ন  বার  
জুলুম শকুন খামচে ধরেছে যেখানেই জনপদ
তুমুল তিমির ঘেঁষে ঘুটঘুটে কালো রাজপথ 
হে-জাজের কাফেলা সামনে, সেখানেই উঠেছে জেগে মঞ্জিলে মকসুদ।
তবু আজ এই দুর্যোগে, সিজদায় সিজদায়, প্রতিটি প্রার্থনায়
আজ শুধু প্রয়োজন,
বড় বেশি প্রয়োজন- ঈমানের গুনে বলিয়ান, সাহসী মুসলমান    

মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১১

তখন কি আর তাকে তোমার মনে পরে ??



যেখানে সীমানা ফুরিয়ে গেলে,,
মনে হয় সব বুঝি মিছে মায়া জাল,
ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সব কিছুর ভেতর নিঃশেষে থাকে শুধু ছাই
হাতের উপর ও আর হাত থাকেনা
মনের পাশে গোলাপ গোলাপ ফুল থাকেনা
কার্নিশের আলোর খেলায় মন বসেনা
বুঝতে কি পারো তখন )
কতটা নগন্য এই ছোট্ট জীবন ?
তখন কি আর তার কাছে খুব মন সঁপেছো?
ইচ্ছে কি হয়, অন্তরে তার নামের গুণে শান্তি নামুক ?
খুশির জরীন আভায় যখন মুখটা জুড়ে রৌদ্র জ্বলে
চারপাশে যা কিছুই দেখি
অমন করে মুগ্ধ হয়ে চোখের কোনায় জোনাক ফুটে
সকাল সাঁঝে হঠাৎ যদি বৃষ্টি ঝরে,  
কেমন যেন সুখ সুখ বিচ্ছুরনে প্রাণটা হারাও
তখন কি আর মনে থাকে (?)
তার কথা ? তার বন্দনাতে তখন কি আর হয়েছো জুব  ?

সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১১

এপিটাফ



বিলুপ্ত এক নগরীতে পরে আছে আমার শরীরের উচ্ছিষ্ট করোটি ও হাড়
কি তুচ্ছ, কি নগণ্য দেখো!!
অথচ আমৃত্যু ছিল বেঁচে থাকার তুমুল লড়াই
ফিরে চলা এক নদীকে যেন ঠিক স্রোতের উল্টো দিকে
টেনে নিয়ে যাবার এক মূর্খ প্রচেষ্টা …

ফারাক

বাতিঘরগুলো আলোকশূন্য ছিলনা এমন
এমন পারিজাত ঘুমের ভেতরে মগ্ন ছিলনা সেনাপতির খুন রাঙ্গা পথ
বাসস্থানগুলো এমন টেরাকোটার নকশাখচিত ছিলনা বোধয়
বরং, সেখানে ছিল শুধুই এক আলৌকিক গৃহসজ্জা …
দূর্গগুলোও এত বেশি সাহসশূন্য ছিলনা তখন।
উচ্চারিত শব্দ আর সিনার ভেতরে আস্থার মধ্যেও
এত বেশি দূরত্ব ছিলনা জানি।
আসলে ঈমানের ভেতরে মনন ছিল
দরজার ওপারটায় গন্তব্য ছিল সোজা …

শংকা

ভাবো,
এখন প্রতিবাদের শব্দগুলোও তোমার আমার দিকে তাচ্ছিল্যের হাসি ছুঁড়ে মারছে  
 আমাদের উচ্চারিত শব্দের তেজশুন্যতার বলয়ে হারিয়ে যেতে চলেছে মানবিক প্রেম
হাতের মুষ্টি থেকে ছুটে চলে গেল সাহসের স্বাধীনতা , আর
অমাবস্যার মত অন্ধকারের পুরুত্বে চাক চাক রহস্যের গন্ধ
মনে করো,
চারিদিকে যুদ্ধের ঘন্টাধ্বনি,
কিন্তু যুবকেরা সব পালিয়ে গেল উপত্যকার পেছন দিকটায় ...
বেঁচে থাকার মিথ্যা আশায় !!
মসজিদের মিনারগুলো ঠায় দাঁড়িয়ে আছে
কিন্তু আজানে আজানে এখন আর মুখরিত হয়না বিশ্বাসীদের শীতল আত্মা
ধরো,
নিরাপদ দূরত্ব বলতে আর কিছু নেই
জখম , রক্ত, ওহ! চারপাশে শুধু মৃত্যুর দাপট
মা কিংবা প্রেয়সীকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার সময় বিলীন
রাওয়াহার মত তুমি কিংবা আমিও কি পারবো তখন, ছুটে যেতে  ??
তুচ্ছ করে পৃথিবীর মায়ার বাঁধন !!