সোমবার, ২০ মে, ২০১৩

উপযুক্ত সময়

ভাঙনের অভ্যাস জানো ?
শুরু হলে নিঃশেষ হবেই সে, মানো?
এখন সেই উপেক্ষিত সময়
ভাঙতে ভাঙতে হবে আমূল অপচয় ।

এরপর সহজ আরম্ভ ,নতুন সূর্যের
উড়বে নিশান দেখো নয়া দূর্গের ।

তবু বলি ভাঙনেই উপযুক্ত মুক্তোর চাষবাস
তবু বলি ভেঙে ভেঙে গড়তে শেখায় ইতিহাস...

শনিবার, ১৮ মে, ২০১৩

খোঁজ

মৌনতার অক্ষরে লেখা মিনতির শব্দগুলো,
কে বোঝে ? কে দেয় নিরবে উত্তর ?
সিজদায় সিজদায় যত কথোপকথন
অন্তরে বিনম্র নকসা আঁকার যত আয়োজন
কে তাতে ঢেলে দেয় তৃপ্তি ?






বৃহস্পতিবার, ২ মে, ২০১৩

বিশ্বাস অথবা ঐশ্বর্য

যাকে তুমি বিশ্বাস বল, আমি বলি ঐশ্বর্য,
অবনত অন্তরের গহীনে যার অবাধ প্রতাপ।
মৃত্যুর সংজ্ঞা খুঁজে খুঁজে যারা গোত্রহীন নক্ষত্রের মত সময়ে মিলায়
তাদের হীনতা বুঝ ?
অথচ তুমি যাকে বিশ্বাস বল,
আর আমি বলি ঐশ্বর্য, সেখানেই উন্মুক্ত রহস্যের বিচরণ ।
যার কাছে ক্ষুধা সর্বোস্ব শরীরের দিনরাত্রি যাপনের নাম জীবন
তবে মৃত্যু মানে মাটিতে বিলীন।
যাকে তুমি বিশ্বাস বল, আমি বলি ঐশ্বর্য
সে ঐশ্বর্যে প্রোথিত আশ্বাস,
রাজাধিরাজের কাছে ফিরে যাওয়াই মৃত্যুর প্রকৃত বিন্যাস...   

শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৩

ছোঁয়াচে মৃত্যু

সংকটের বোমা বিস্ফোরণে বিক্ষত সময়
আর, আক্রান্ত মানুষের উদ্বেগের চিহ্ন বুঝিয়ে দেয়, অন্ধকার কতটা গভীর !
বারুদগন্ধি বাতাস ছুঁয়ে গেলে উপত্যকার আনাচ কানাচ
তখন কি তুফানের আশঙ্কা লুকিয়ে রাখতে পেরেছে কেউ ?

এভাবেই তুফানের শুরু,
ক্রমেই উৎকট ষড়যন্ত্রের অশ্রাব্য মুখোশগুলো ক্ষেপে ওঠে।
ঠিক যেন রক্তের পিপাসায় উদভ্রান্ত দানবের মত তাদের হুংকার !
ছোঁয়াচে মৃত্যুর খোঁজে রাস্তায় রাস্তায় একদল শকুন লেলিয়ে দিয়ে
যারা লাশের গন্ধ শুঁকে বেড়ায়,
তাদের প্রাসাদে দেখ, ঝুলে আছে ধ্বংসের ঘণ্টা।
রক্ত আর মৃত্যু দিয়ে মসনদ সাজাতে গিয়ে,
মনে আছে, কত হায়েনার পতন দেখেছে পৃথিবী ?
তবুও শেখেনা জালিম !
পতনের গন্ধ তাড়িয়ে দিয়ে,
আঁকড়ে পরে থাকার কেন এই অশুভ আহ্লাদ ?
কেন জালিমের প্রাসাদ সীমানা অবদি পৌছেনা অনিবার্য পতনের বার্তা ?
১৬।০৪।১৩

অনীবার্য ফুসে ওঠা


তুমুল তিমির নেমে এলে
দগ্ধ অন্তরগুলো বিস্ফোরিত হলে
দাঁতালো জানোয়ারের ভয়ে আর কেউ লুকিয়ে থাকেনা কোথাও...
তখন শুধু প্রতিরোধ,
সমস্ত শিকল কচলে প্রশস্ত সিনার ভেতরে দুর্বার অস্তিত্বের সুঠাম প্রকাশ, 
শোষণের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঠেসে দাও মৃত্যুহীন মৃত্যুর প্রতীজ্ঞা।

আর,
নারী, তুমি তার আস্তিন টেনে ধরোনা,  
মা, তোমার খোকাকে সাজিয়ে দাও,
বোন, তুমি প্রস্তুত হও বিরতিহীন প্রার্থনার জায়নামাজ হাতে,
অথবা কলম ধরো দৃঢ় প্রত্যয়ে ...    

কিছু সহজ অনুভূতি - ৪


ভুল কাজ, ভুল কথা, ভুল চিন্তা, ভুল ধারণা এসব মানুষের জীবনের কমন ফিচার। মানুষের মধ্যে ভাল খারাপ দুটো সত্ত্বাই দিয়ে দিয়েছেন আল্লাহ। কিন্তু এক এক জন এই দুটো স্বত্বার ব্যবহার  এক এক মাত্রায় করে থাকেন। এই যেমন যে মানুষটিকে আমি ভাল কাজ করতে দেখছি, তিনি তার ভাল স্বত্বাকে কাজে লাগাতে সক্ষম হচ্ছেন।আবার তার মাঝে যে একেবারেই কোন খারাপ কাজের বৈশিষ্ট্য নেই, তা কিছুতেই বলা সম্ভব নয়।কিন্তু আল্লাহ তার ভাল পথে থাকার চেষ্টাটাই দেখবেন। আবার যে মানুষটির মধ্যে খারাপ কাজের বৈশিষ্ট্য বেশি, তার মাঝেও ভাল কাজের গুন বৈশিষ্ট্য অবশ্যই আছে।আমরা ভাল মানুষের সাথে মিশতে পছন্দ করি, কিন্তু যাকে খারাপ ভাবছি তার মাঝেও যে ভাল দিকগুলো রয়েছে, সেগুলো হয়তো আমার কাছে নেই। তাই ভাল গুন বৈশিষ্ট্য ভাগাভাগি করে নেবার জন্য মানুষের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়াটা খুবই জরুরী।মনে হয় এভাবেই ইসলামের সৌন্দর্য অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব। এ কারনেই মানুষের সম্পর্কে খারাপ ধারনা রাখা কে আল্লাহ নিষেধ করে দিয়েছেন।
যদি শুধু ভাল মানুষগুলো নিজেদের গণ্ডির মধ্যে একটা কাটা তারের চেয়েও অধিক শক্তিশালী দেয়াল তৈরি করে দিয়ে, এর বাইরের মানুষগুলোকে দূরে ঠেলে দিতে থাকেন, তাদের ভালোত্ব কোনদিন প্রসারিত হবেনা।ইসলামের সুরভী ছড়িয়ে দিতে চাইলে, এই হীনমন্যতা থেকে বেড়িয়ে এসে সবার মাঝে সকল ভাল কাজ গুলো বিস্তৃত করে দিতে হবে।

এই ধরুন, যে মেয়েটা পর্দা করছে সে কেন শুধু ইসলামিক পরিবেশে চাকরী করতে চাইবে ? বরং তার দ্বারা একটা সাধারণ পরিবেশ প্রভাবিত হবে, তার ভাল গুনের সুরভীতে সেই পরিবেশের অন্য মানুষগুলো সুরভিত হবে। এখন হয়তো আমরা বলবো, এমন পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে যদি নিজেই পথভ্রষ্ট হয়ে যাই ? হুম, এই ভয়টা আমাদের মনে থাকবেই, এজন্যই আল্লাহ তার কাছে সাহায্য চাইতে বলেছেন। আল্লাহর রসূল যদি এই ভয় করে, কুরানের বানী প্রচারণা থেকে বিরত থাকতেন, তাহলে ইসলাম কোনদিনই প্রস্ফুটিত হতনা। তাঁর আশেপাশের পরিবেশ কতোখানি বিরূপ ছিল এটা আমরা সবাই জানি।

মানুষের কাছাকাছি পৌঁছে যাক ইসলামের সকল সৌন্দর্য, যা কেবল মুসলমানদের হীনমন্যতার অবসানের মাধ্যমেই সম্ভব। মানবতার বন্ধু মোহাম্মদের দর্শন হোক আমাদের জন্য মানুষের কাছাকাছি পৌঁছাবার পাথেয়। 

কিছু সহজ অনুভূতি - ৩



 প্রিয় রসূলের পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখতো যেই বুড়ীটা, মনে আছে? প্রিয় নবী তার অসুস্থতার কথা জেনে, ছুটে যান।দয়া আর মানবিকতার এক অতুলনীয় উদাহরণ স্থাপন  করেন প্রিয় নবী, সর্বকালের সর্ব যুগের শ্রেষ্ঠ এই মানুষ।
ইদানীং দেখি নিজেকে মুসলমান বলে যারা দাবী করছেন, তাদের অনেকেই খুব সহজে অন্যদের কাফির বলে গালি দিচ্ছেন।অন্যদের বিশ্বাসকে অসম্মান করা, অন্যদের সমালোচনা করে নিজের মতকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য নিচু ভাষা ব্যবহার করতেও কারো কারো বাধেনা।অনেকের ধারণা মুসলমান ছাড়া পৃথিবীর বাকি সবাই যেন আল্লাহর সমস্ত নেয়ামত থেকেই বঞ্চিত। হুম, তারা আল্লাহর একটা নেয়ামত থেকে বঞ্চিত, সেটা হল ইসলাম। কিন্তু তাই বলে তাদের প্রতি ঘৃণায় ভরা অন্তর নিয়ে রি রি করতে থাকলে, কেউ কিভাবে মুসলিম হতে পারে? তাকে দিয়ে তো ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।অথচ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা একজন মুসলমানের অন্যতম দায়িত্ব। পৃথিবীতে আসার অন্যতম উদ্দেশ্য।আল্লাহ নিজেই বলেছেন হেদায়েতের মালিক তিনি নিজে, আজ যে মানুষটি মুসলমান হবার কারণে অহংকারে উচ্ছ্বসিত, তার কাছ থেকে আল্লাহ হে-দায়াদ কেড়ে নেবেন না এটা কি কেউ গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারেন? কিংবা যে মানুষটি ইসলামের ছোঁয়া পাননি তিনি যে আল্লাহর হেদায়েতের ছায়ায় সিক্ত হবেননা সেটা কি কেউ বলতে পারবেন ?
ওহী নাজিলের পর প্রিয় নবী যখন ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ঘরে ফিরলেন, চাঁদরে শরীর ঢেকে দিতে বললেন এবং তিনি ওহী নাজিলের ঘটনা খাদিজার (রা) কাছে খুলে বলে তাঁর জীবনের আশঙ্কার ভয় ব্যক্ত করলেন, ভীত কম্পিত রসূলকে খাদিজা (রা) সাহস যোগাচ্ছিলেন এই বলে,

“ না তা কক্ষনো হতে পারেনা। আল্লাহর কসম, তিনি আপনাকে লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ়-কারী, গরীব-দুঃখীর সাহায্যকারী, অতিথিপরায়ণ ও মানুষের বিপদে সাহায্যকারী ”

তিনি মানুষকে ভালবাসতে পেরেছিলেন বলেই, তাঁর ছোঁয়ায় সিক্ত হয়েছে উত্তপ্ত জাহেলিয়াত।অথচ তাঁকে জীবনের আদর্শ মেনে নিয়ে তাঁর সুন্নত অনুসরণ করা বাদ দিয়ে আজকে আমরা শুধু অন্যের সমালোচনায় মশগুল। কে আস্তিক, কে নাস্তিক, কে কোথায় খারাপ কাজ করছে এসবের ফিরিস্তি গাইতে গাইতে যায় বেলা। অথচ নিজেরা যে এখনও রসূলের প্রকৃত অনুসারী হতে পারিনি, তাঁর মত মানব সেবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারিনি, নিজেদের মৌলিক মানবীয় গুণাবলীর ঘাটতি ব্যাপক, অথচ ইসলামিক গুণাবলীর সাথে সাথেই মৌলিক মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন না হতে পারলে, মানুষের কাছাকাছি না যেতে পারলে সত্যিকারের মুসলমান কিছুতেই হওয়া সম্ভব নয়। আমরা কি পারছি এই দু ধরনের গুনের সমাবেশ নিজের মধ্যে ঘটাতে ?

মোদ্দা কথা হল, একজন মুসলমান হবেন বিনয়ের এক মূর্ত প্রতীক।কারণ সে বিশ্বাস করে, আল্লাহ যেমন অসীম দয়াবান, তেমনি তার ক্রোধও অনেক ভয়ানক।তাই নিজেকে পারফেক্ট ভাবার রোগ থেকে আমাদের নিজেকে বাঁচিয়ে চলতে হবে।